নিজস্ব প্রতিবেদক
চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। দিন ও রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও তাপমাত্রা কমতে থাকার কারণে সারা দিন-সারা রাত তীব্রশীত অনুভূত হচ্ছে। চলমান শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে দিন দিন বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো চলনবিল এলাকায় শীত জেঁকে বসেছে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ।
শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটছেন হাটবাজার, ফুটপাত ও শীতের কাপড়ের দোকান গুলোতে। ফলে উপজেলা সহ আশপাশের এলাকার শীত কাপড়ের দোকান গুলোতে বেচাকেনা উল্লেখ্য যোগ্য ভাবে বেড়েছে।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যেবক্ষণ কেন্দ্রের পর্যেবক্ষক ফজলুল করিম জানান, গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাহারি রঙ ও ডিজাইনের শীতবস্ত্রের সমাহার দেখা যাচ্ছে। দোকান গুলোতে জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, বেøজার, মোটা কাপড়ের টি-শার্ট, মাফলার, কানটুপি ও হাতমোজা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
শহরের মার্কেট ছাড়াও গ্রামের হাটবাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কম দামে শীতের পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভরসা করছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোতে ১৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া রাস্তার পাশে ভ্যান ও ফুটপাতের দোকানে পুরোনো গরম কাপড় বিক্রিরও ধুম পড়েছে। সন্ধ্যার পর এসব দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। অল্প দামে পুরোনো সোয়েটার, জ্যাকেট, ফুলহাতা গেঞ্জি, মোজা ও মাফলার কিনছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
তাড়াশ পৌর শহরে বিক্রেতা করিম জানান, শীতের কারণে নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, সরকার থেকে শীতার্ত, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা উপজেলার বিভিন্ন কওমীয়া, হাফিজিয়া, এতিম খানায়, ভাসমান ও অসহায় দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ ইভান শাহরিরায় চৌধুরী তাশদিক, বার্তা সম্পাদকঃ এফ, এম, শামসুল ইসলাম, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৭১, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
All rights reserved © 2019 deshbortoman.com